ফান্ডিং ও স্কলারশিপ বেসিক ধারণা

Updated: Jan 28, 2021


দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা স্কলারশিপের জন্য আমাদের সবারই বেশি আগ্রহ থাকে। এই লেখাটিতে তুলনামুলক আলোচনা করেছি বহির্বিশ্বের এই দেশ গুলোর স্কলারশিপ সিস্টেম সম্পর্কে- মাস্টার্স/পিএইচডি কোর্সগুলোকে কেন্দ্র করে। এককথায়, মাস্টার্স/পিএইচডি কে পোস্ট-গ্র‍্যাড বলে।

স্কলারশিপ ও ফান্ডিং কি একই?

প্রথমে আসি স্কলারশিপ প্রসংগে। ফুল-স্কলারশিপ পেলে আপনার টিউশন ফি, লিভিং এক্সপেন্স ক্ষেত্র বিশেষে আপনার হেলথ ইন্সিউরেন্স কাভার হবে। হায়ার স্টাডিজ টার্মিনোলোজিতে কথায় কথায় স্কলারশিপকেই অনেক সময় ফান্ড বলে থাকি কথ্য ভাষায়। কিছু ক্ষেত্রে স্কলারশিপ শুধু মাত্র টিউশন ফি কাভার করে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আংশিক স্কলারশিপও আছে, যেখানে টিউশন ফির কিছু অংশ কাভার হয়, পুরোটা নয়। এজন্য কেউ স্কলারশিপ পেয়েছে, শুনলে জিজ্ঞাসা করুন ফুল নাকি পার্শিয়াল (আংশিক)?

ফান্ডিং পেতে হলে কি করতে হবে?

আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া পোস্ট-গ্র‍্যাড লেভেলে ফান্ড পেতে চাইলে প্রথমে আপনি যে বিষয়ে পড়তে চান যে ভার্সিটিতে সেই বিষয়ের কোন বিশেষজ্ঞ প্রফেসরকে ইমেইল লিখতে হয়। ইমেইলে কি লিখবেন সেটা নিয়ে আরেকটি লেখায় বিস্তারিত লিখেছি। সেটা পড়ে দেখতে পারেন:

তো প্রফেসরের যদি আপনার প্রোফাইল দেখে পছন্দ হয় তবে তিনি আপনাকে রিপ্লাই ইমেইলে হয়তো বিস্তারিত আরো কিছু জিজ্ঞেস করবেন ভবিষ্যত গবেষণা টপিক নিয়ে। তারপর আপনাকে তিনি ভার্সিটি তে ফর্মালি এপ্লাই করতে বললে আপনি অনলাইনে এপ্লিকেশন করবেন। তিনি তারপর আপনাকে অনলাইনে ইন্টারভিঊ নেবার জন্য কোন শিডিউল দেবেন। অনলাইনে ইন্টারভিউ কেমন হয়, কি কি জিজ্ঞেস করে এটা নিয়ে ভিডিওতে বিস্তারিত আছে। সেটা পড়ে দেখুন একেবারে আইডিয়া না থাকলে।


ফান্ডিং ও স্কলারশিপ কয় রকমের হয়?

মূলত পাচ্ রকমের ফান্ডিং হয়ে থাকে: 1)Research Assistantship (RA) 2)Teaching Assistantship (TA) 3)Graduate Assistantship (GA) 4)University Fellowship 5)Organizational Scholarship

1.Research Assistantship (RA): যদি প্রফেসর আপনাকে তার রিসার্চ গ্রুপে নিতে চান, তবে আপনাকে তিনি ডিপার্টমেন্টের ফান্ডিং এর ব্যাপারে রিকোমেন্ডসহ নিজের রিসার্চ ফান্ডিং থেকে আপনাকে একটা মান্থলি এমাউন্ট দেবেন যেটাকে Research Assistantship (RA) বলে। ফান্ডিং এজেন্সি গুলো প্রফেসরদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রিসার্চ গ্রান্ট দেয় গবেষণার জন্য। আপনার জন্য এই RA ফান্ডিং মূলত আসে প্রফেসরের নিজস্ব রিসার্চ গ্রান্ট ও প্রজেক্ট মানি থেকে। এক্ষেত্রে প্রফেসর আপনাকে আগেই জানিয়ে দেবে কি পরিমান ফান্ডিং তিনিও আপনাকে দিতে পারবেন। RAship এর পরিমান প্রফেসর, দেশ ও ভার্সিটি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

2.Teaching Assistantship (TA): আর ডিপার্টমেন্টাল ফান্ডিং হিসেবে আপনি Teaching Assistantship (TA) পাবেন যেখানে আপনাকে আন্ডারগ্রাডদের ল্যাব সেশন, খাতা মার্ক করা ইত্যাদি টাইপের কাজ করতে হবে, বিনিময়ে আপনাকে একটা এমাউণ্ট দেয়া হবে, যেটাকে TA বলে। TAship- টাকার উৎস হলো আপনার ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট থেকে। USA এবং Canada তে ম্যাক্সিমাম পোস্ট গ্র‍্যাড /স্টূডেন্টরাই RA, TA পেয়ে থাকে। সাথে টিউশন ওয়েভ পায় অনেকে, আবার অনেকে পায়না (প্রোফাইল টু প্রোফাইল ভ্যারি করে)। আমেরিকার বেলায় ইন-স্টেট টিউশন ফি অর্থাৎ ডোমেস্টিক স্টুডেন্টদের মত লো টিউশন ফি সুবিধা পায় অনেকে।

3.Graduate Assistantship (GA): GA হলো অনেকটা এডমিনিস্ট্রেটিভ জবের মত, এক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্ট হয়তো কোন ক্লেরিক্যাল ডেস্ক ওয়ার্ক টাইপের কোন কাজের অফার দেবে, যার বিনিময়ে GA টাকা পাবেন।

4.University Fellowship: এখন আসি সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস ফান্ডিং যেটা শুধু টপ লেভেলের ক্যান্ডিডেটগণ পেয়ে থাকেন। এটাকে ফেলোশিপ বলে। ফেলোশিপ মুলত পিএইচডি লেভেলে দেয়া হয়, এবং কোন ইউভার্সিটির/ডিপার্টেমেন্টের কেবল টপ কয়েকজন পিএইচডি আবেদনকারি ক্যান্ডিডেটগন পেয়ে থাকেন এই ধরনের ফেলোশিপ। যেমন সারা বিশ্ব থেকে যতজন পিএইচডি স্টুডেন্ট ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে UBC তে আবেদন করেছিল তাদের মধ্যে থেকে টপ ১০ জন কে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে আমি একজন ছিলাম। উদাহরণ হিসাবে আরো কিছু ইউনিভার্সিটি যেমন কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট ফেলোশিপ, এমআইটির গ্রাজুয়েট ফেলোশিপ ইত্যাদি সবই ইনকামিং টপ পিএইচডি স্টুডেন্টরাই পেয়ে থাকে, সকল পিএইচডি স্টুডেন্ট নয়।

5.Organizational Scholarship: সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি এসব স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। যেমন জাপানের মনবুশো, ইউরোপের ইরেসমাস মুন্ডুস, সাউথ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ, আগা খান ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ, DAAD, Australia Award, Commonwealth, Chevening scholarship ইত্যাদি


**ভিডিও দেখুন সাউথ কোরিয়াতে স্কলারশিপ সম্পর্কে।

**ভিডিও দেখুন ইরেসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ সম্পর্কে।

**ভিডিও দেখুন কানাডায় স্কলারশিপ সম্পর্কে।

**ভিডিও দেখুন আমেরিকায় স্কলারশিপ সম্পর্কে।

সেন্ট্রালি এপ্লাই করলে ফান্ডিং পাবো নাকি প্রফেসরকে আগেই কন্টাক্ট করা উচিত?

আসলে এটা সরাসরি হ্যা বা না ভাবে বলা মুশকিল। সেন্ট্রালি এপ্লাই করা মানে হলো প্রফেসরকে ইমেইল না করে ডিপার্টমেন্টে সরাসরি এপ্লাই করা। সাধারণত আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে গুলায় সেন্ট্রালি ফান্ডিং বেশি হয়, কিন্ত কানাডা/ অস্ট্রেলিয়ায় বেশিরভাগ প্রোগ্রামেই প্রফেসর ম্যানেয করা বাধ্যতামূলক। এরপরে এপ্লাই করতে হয় এবং ফান্ডিং সিদ্ধান্ত হয়। এই কথাটি মাথায় রাখবেন যে আপনাকে পুরো বিশ্বের এপ্লিকেন্টদের সাথে ফাইট করে সেন্ট্রালি ফান্ড পেতে হবে । আর তা না করে আপনি যদি একজন প্রফেসরকে কনভেন্স করেন আগে থেকেই, তার সাথে রিসার্চ করার আগ্রহ প্রকাশ করে একটা ইমেইল করে তাকে কনভিন্স করতে পারেন এবং সে যদি আপনাকে আশ্বাস দেয় যে সে আপনাকে হায়ার করবে তাহলে এডমিশন কমিটিতে তখন আপনার এডমিশন চান্সটা বেড়ে পারে, যদিও এটা আসলে আরো অনেক কিছুর উপর যেমন- অন্যান্য আবেদনকারীদের তুলনায় আপনার প্রোফাইল কতটা স্ট্রং এটার উপরেও নির্ভর করে। তবে আগে থেকে প্রফেসরকে ম্যানেজ করতে পারলে তার রিসার্চ এরিয়া, তার চলমান রিসার্চ প্রজেক্ট সম্পর্কে ভালো আইডিয়া পাওয়া যায়, যেটা আপনার এডমিশনের সময় ইউনিভার্সিটির Statement of Purpose (SOP) এ লিখতে সুবিধা হবে। SOP এর সম্পর্কে কারো আইডিয়া না থাকে, তাহলে এই লিখাটি পড়ে দেখুন কিভাবে SOP লিখতে হয়।


এজন্য আপনি দুটি প্রসেসে আগাতে পারেন । আপনি প্রথমে ইমেইল করেন প্রফেসরকে, যদি রিপ্লাই না পান তাহলে আপনি দ্বিতীয় যে পথ অর্থাৎ সেন্ট্রালি এপ্লিকেশন সেভাবে আপনি এপ্লাই করে দেখেন। কিন্তু আমি আপনাকে উপদেশ দিবো আগে অবশ্যই চেষ্টা করবেন একজন প্রফেসর ম্যানেজ করার।

ফান্ডিং কি শুধু নিজ যোগ্যতাতে পাওয়া যায় নাকি এখানে ভাগ্য ও অন্যান্য এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর কাজ করে?

ফান্ডিং, প্রফেসর ম্যানেজ করা এগুলা সবসময় শুধু পিউরলি নিজ নিজ যোগ্যতাতে হয় না, কিছু ক্ষেত্রে অনেক ভাগ্যের ও নেটওয়ার্কিং স্কিল এগুলার সাহায্য লাগে। দেখা গেছে পরিচিত কেউ বা কারো কাছে কোনো প্রফেসরের ফান্ডিংয়ের খবর শুনে এপ্লাই করে ফান্ডিং পায় অনেকে, আবার অনেক ভালো রেজাল্ট ও প্রোফাইল নিয়েও শুধু নেটওয়ার্কিং স্কিল, ও স্কলারশিপ/ ফান্ডিং নিউজ সোর্সের আপডেটেড খবর না জানার কারণে অনেকের প্রচেষ্টা বিফলে যায়। আজকাল হলো স্মার্ট উপায়ে পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা চালানোর যুগ , শুধু কঠোর পরিশ্রম দিয়েই হয়না।


অনেক সময় অনেক যোগ্য ক্যান্ডিডেট তার এপ্লিকেশনের সময়ে প্রফেসরের কাছে ফান্ডিং না থাকায় সুযোগ পায়না, আবার হয়তো পরের বছর একই প্রফেসরের কাছে ওই ক্যান্ডিডেটেটের চেয়ে একটু কম মানের প্রোফাইলের স্টুডেন্ট এপ্লাই করে ফান্ডিং থাকায় সেটা পেয়ে যায়। যোগ্যতা ও ভাগ্যের দুটোরই একই সাথে ক্লিক হলেই ফান্ডিং ও প্রফেসর ম্যানেজ করা যায়। তাই কখনো প্রফেসরদের ইমেইল করে রেস্পন্স না পেলে নিজের যোগ্যতার প্রশ্ন তুলে মনে মনে হতাশ হবেন না, বরং প্রচেষ্টা চালিয়ে যান কারণ ভাগ্য প্রচেষ্টাকারীরই অনুকূল হয়- সেটা আজ অথবা কাল হোক। ৪০০/৫০০ প্রফেসরদের ইমেইল দিয়ে তারপর ফান্ডিং পায় এমন ঘটনা খুবই কমন, এতে হতাশ হবেন না । সব কিছুই প্ল্যানিং ও ধৈর্য সহকারে করতে হবে, আর দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া তো অনেক সময়, সাধনা আর পরিকল্পনার ব্যাপার। লেগে থাকে যারা, তারাই একদিন শেষ হাসি হাসে।


লিখাটি লিখেছেন:

Md Nazmul Hasan Topu, Founder, Scholarship School BD

PhD researcher, Electrical & Computer Engineering

University of British Columbia, Vancouver, Canada

 

লিখাটি ব্যবহার করতে চাইলে, অবশ্যই লেখকের নাম, ও প্রতিষ্ঠান এর যথাযথ ক্রেডিট সহকারে করতে হবে।


লিখাটি শেয়ার করুন ও ইউটিউবে আমাদের টিপস গুলি ফলো করুন। প্রতিদিন স্কলারশিপ নিউজ, ও প্রফেসর ফান্ডিং টিপস, IELTS, GRE টিপস পেতে এখুনি জয়েন করুন Scholarship School BD Website: www.sschoolbd.com

1,709 views0 comments